- ঐতিহ্য, জাতীয়, নরসিংদীর খবর, লিড নিউজ, শিক্ষা ও সাহিত্য, সারাদেশ

” বঙ্গবন্ধুর সরাইল সফর ” – সৈয়দ নজরুল ইসলাম

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর, বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তি পেয়ে”বঙ্গবন্ধু”উপাধিতে ভূষিত হলেন এবং দেশব্যাপী রাজনৈতিক সফর শুরু করলেন।
তারই অংশ হিসেবে ২৭ শে জুলাই ১৯৬৯ সালে কুমিল্লা সফর শেষে সিলেটে সফরের কর্মসূচি ছিল।
এই কর্মসূচির সংবাদ পেয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সরাইলে আসার জন্য বঙ্গবন্ধুকে আমন্ত্রণ জানানোর।
আর এই আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শ্রী সুশীলচন্দ্র কর, আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এডভোকেট, বীর মুক্তিযোদ্ধা (প্রয়াত) আবু বক্কর মজনু ভাই, কুমিল্লায় পরম শ্রদ্ধেয় শহীদ শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কাছে যান।
সুশীল’দা এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সম্পর্ক ছিল তুমি তুমি করে। বাড়ি রামরাইল, পাতিরখাতায় ছিল।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আমার বড় ভাই মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ সিরাজুল ইসলামকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন।

সবকিছু খুলে বলার পর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে দিলেন।
তাঁরা কুমিল্লা থেকে এসে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আজম সাহেবের চিঠি নিলেন।
জননেতা আলী আযম সাহেব, আমার বড় ভাইয়ের ওকালতিতে এবং রাজনীতিতে অভিভাবকত্ব দিয়েছেন।
আমার বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম এবং রবীনাগ‌, ৩২ নাম্বার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর ভবনে দেখা করেন।
বঙ্গবন্ধুকে চিঠি দুটো দিয়ে সরাইলে আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধনের আমন্ত্রণ জানানো হলে বঙ্গবন্ধু সম্মতি দিয়ে ২৭ শে জুলাই ১৯৬৯ সালে তারিখ নির্ধারণ করে তাঁর ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করে নিলেন।
বড় ভাই ঢাকা থেকে ফিরে এলে এই সংবাদ শুনে সরাইলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলো।
যদিও সরাইলে আওয়ামী লীগের ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি ছিল। এর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন (প্রয়াত) গোলাম রাব্বানী খান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন, ডাক্তার শাহ মোবারক আলী (লিলু ডাক্তার)
তবে সেই সময়ে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে পড়ুয়া ছাত্রলীগ এবং ছাত্রলীগ সমর্থিত সরাইল আলাদাতপুর ছাত্র সংগঠন। যার নেতৃত্বে ছিলেন (প্রয়াত) বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর মজনু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এডভোকেট।
এছাড়া অমরেশ রায়, এডভোকেট আবদুর রাশেদ, শহীদ মেজবাহউদ্দিন ফারুক, মোহাম্মদ সাদেক, সিরাজুল ইসলাম ঠাকুর, কাজি হাফিজুল ইসলাম, আলতাব আলী, জজ মিয়া, দুদুমিয়া (মাস্টার) প্রমূখ।
তাঁরা প্রত্যেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে দেশমাতৃকা মুক্তির লক্ষ্যে লড়াই করেছেন মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে।
সেই সময়ে সরাইলে যারা ছাত্রলীগ করতেন তাদের সবার প্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এসআই আইয়ুব আলী (ভাই) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাইল থানা। তিনি সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মীর মত কাজ করেছেন মনে প্রানে। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
২৭‌‌ শে জুলাই ১৯৬৯ এর এই সভাটি সফল করতে আরও যারা সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান এডভোকেট হামিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সরাইল থানা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান এ আই মনোয়ার উদ্দিন মদন প্রমূখ।
আমাদের বাসায় তখন আনন্দের বন্যা বইছিল।
আব্বা আম্মাকে নিয়ে সরাইল কুট্টাপাড়া আমাদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেন। এই জনসভা সফল করতে আমাদের বাড়িতে তখন দফায় দফায় মিটিং চলছিল। আর এই সমস্ত মিটিংয়ের নেতৃত্ব দিতেন হাজী আজদু সরদার, ওয়ালী সরদার, শহীদ সর্দার, জুনিয়ার সরদার এর মধ্যে জাহের আলী সরদার প্রমূখ।
তাঁরাই তখন সরাইল নিয়ন্ত্রণ করতেন।
এই সমস্ত মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হল,
২৭ জুলাই গ্রামের কেউ হালচাষে যেতে পারবেনা তার আগেই একজন আরেকজনের হাল চাষ করে দেবেন, ঐদিন কেউ দুধ বিক্রি করতে বাজারে যাবেন না, কালিবাজার থেকে পাইকার এসে আমাদের বাড়িতে সকলের দুধ নিয়ে যাবে।
আর এই দিকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে পড়ুয়া উত্তরাঞ্চলের সকল ছাত্ররা দলে দলে আসতেন। তারমধ্যে চান্দুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হেবজু ভাই, আলা দাউদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোশারফ হোসেন ছিল অন্যতম।
আমার মেজু ভাই সৈয়দ মফিজুল ইসলাম, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারি বদলির চাকরি ভাগ্যক্রমে সেই সময় তাঁর পোস্টিং ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
আগত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের যেন কোন অসুবিধা না হয় সেই দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।
এদিকে বড় ভাই, শাফি ভাই, মজনু ভাই, সকালের নাস্তা খেয়ে গণসংযোগে বেরিয়ে পড়তেন। ফিরতে অনেক রাত্র হয়ে যেত সেই পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতাম।
তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হাতেগোনা কয়েকটি বেবিটেক্সি ছিল তারমধ্যে দুটি ছিল কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ সাহেবের। ২৭ তারিখের জন্য আমি আগে থেকেই একটি রিজার্ভ করে রেখেছিলাম।
বঙ্গবন্ধু সরাইল যাবার পথে কোকিল টেক্সটাইল মিলের সামনে থামবেন এবং সেখানে বক্তব্য দেবেন। এইটুকু আমি আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলাম। কোকিল টেক্সটাইল মিলটি ছিল শ্রমিক লীগের ঘাঁটি। আগের দিন বঙ্গবন্ধুর জন্য নির্মিত মঞ্চটি আমি দেখে এসেছিলাম।

অবশেষে এল ২৭‌শে‌ ১৯৬৯ এর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
বেবি টেক্সি নিয়ে আমি, নান্টু এবং নায়েব উল্লাহ কোকিল টেক্সটাইল মিলের কেটে যায়।
সেখানে গিয়ে দেখি (মাহাবুব ভাই) মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জননেতা মাহাবুব উল হুদা, আমি এগিয়ে মাহবুব ভাইকে বলি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমি হাত মিলাবো, মাহাবুব ভাই সম্মতি দিলেন।
তখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা আওয়ামী লীগের এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এসে পৌঁছাননি।
যথাসময়ে বঙ্গবন্ধুর বটল গ্রীন রঙের প্রাইভেটকারটি আসতে দেখে স্লোগান দিতে দিতে সবাই সামনের দিকে এগিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধুর গাড়িটি খুব ধীরগতিতে এগিয়ে আসছিল। বঙ্গবন্ধু জানালা দিয়ে হাত নাড়ছিলেন। মাহবুব ভাই গাড়ির দরজার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে আসছিলেন। বঙ্গবন্ধুর গাড়িটি কোকিল টেক্সটাইল মিলের সামনে এসে থামল, মাহাবুব ভাই দরজা খুলে দিলেন।

বঙ্গবন্ধু গাড়ি থেকে নামলেন, একি হাসি হৃদয়ে আজও আন্দোলিত করে। সবাই হাত মিলাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে কোনো ক্লান্তি নেই। আমি শত চেষ্টা করেও এগুতে পারছিলাম না। এক পা আগালে তিন পা পিছিয়ে পড়ছিলাম। তবে আমার মনের মধ্যে একটি ভরসা ছিল মাহবুব ভাই আমাকে কথা দিয়েছেন। আমি মঞ্চে গিয়ে হলেও হাত মিলাবই।
ব্যর্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু যে সিঁড়িটি দিয়ে মঞ্চে উঠবেন, সেই সিঁড়িটির দক্ষিণ দিকে দাঁড়িয়ে রইলাম। আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দ আমাকে চিনেন কেউ কিছু বলবেননা এই আত্মবিশ্বাস টুকু আমার ছিল।
বঙ্গবন্ধু মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছিলেন সঙ্গে মহকুমা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মাহবুব ভাই বঙ্গবন্ধুর একেবারে পাশে। বঙ্গবন্ধু মঞ্চের সিঁড়ির কাছে আসতেই আমার দু’হাত বাড়িয়ে মাহবুব ভাইকে ডাক দিলাম, মাহবুব ভাই…..
মাহবুব ভাই বঙ্গবন্ধুকে”মুজিব ভাই”বলে আমাকে দেখিয়ে দিলেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্থির দাঁড়িয়ে হাসিমুখে আমার মত এই ক্ষুদ্র মানুষটির সঙ্গে হাত মেলালেন। আমার গালে আলতো করে আদর করে দিলেন।
মনে হলো তিনি যেন আমাকে আগে থেকেই চেনেন!
আহ্ কি মায়া ভরা হাসি জীবনে প্রথম দেখেছি আর কোনদিন দেখবো না অমন হাসি।

৭ ই মার্চ তর্জনী উঁচিয়ে বলেছিলেন
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”

“সেই থেকে”স্বাধীনতা”এই শব্দটি আমাদের।”

সেই পবিত্র হাত আমাকে স্পর্শ করেছে, এই কথাটি মনে হলে আমার সমস্ত শরীর শিউরে উঠে।
৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর মিছিলে মিছিলে অনেক গগনবিদারী শ্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করেছি বিরুদ্ধ বাতাস। কিন্তু একটি মাত্র স্লোগান আমার প্রিয়, আজও প্রিয়, আমৃত্যু রবে প্রিয়।

“আমাদের ধমনীতে জাতির পিতার রক্ত
এই রক্ত কোনদিন পরাভব মানে না।”

বঙ্গবন্ধু সেখানে কি বক্তব্য রেখেছিলেন তা আমার শোনার সুযোগ ছিল না। কারণ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হাত মেলানোর পর, কোকিল টেক্সটাইলের গেটের উত্তর দিকে রাখা বেবিটেক্সিতে দৌড়ে গিয়ে সরাইলের উদ্দেশ্যে রুয়ানা করি। শুধু একটা দুশ্চিন্তা ছিল বঙ্গবন্ধু সরাইল পৌঁছানোর আগে আমি পৌঁছাতে পারব কিনা।
শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সরাইল পৌঁছনোর আগেই আমি পৌছাতে সক্ষম হলাম। পাঠানপাড়া ভেতর দিয়ে যে রাস্তাটি সরাইল গিয়েছে তখন সেই রাস্তাটিই ছিল মূল রাস্তা।
সরাইল থানার বিপরীতে মীর বাড়ির সামনে আমার বেবি টেক্সিটি রেখে, থানার সামনে আসতেই দেখা হলো শফিকের সঙ্গে (শফিকুর রহমান) বর্তমানে সরাইল উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি। সদস্য সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটি। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার নিত্যদিনের সাথী, এবং আমাদের গ্রামের অনেক চেনা মুখ।

হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সরাইল অন্নদা স্কুল এর প্রধান শিক্ষক বাবু হেমেন্দ্র রায়ের ছেলে, বাবু নন্দলাল রায়।
বঙ্গবন্ধু যথাসময়ে এসে পৌঁছালেন, নন্দলাল রায় বঙ্গবন্ধুর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিলেন। আমরা সকলে একযোগে সরাইল প্রাতঃ বাজারের দিকে এগিয়ে গেলাম।
প্রাতঃ বাজারের মসজিদটির ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিম কোনার নবনির্মিত সরাইল থানা আওয়ামী লীগের অফিস বঙ্গবন্ধু উদ্বোধন করবেন।

বঙ্গবন্ধু নবনির্মিত সরাইল থানা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলে। কি কথা তিনি বলেছিলেন দূর থেকে আমার শোনার সুযোগ ছিল না। সেখানে নেতাকর্মীদের ছিল প্রচণ্ড ভিড়।
আমি রাস্তার বিপরীতে উঁচু জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আগে যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাঁরা ছাড়াও যুক্ত হয়েছিলেন বাবু রবীনাগ, আশুগঞ্জ সোহাগপুরের শাফি আহমেদ। একবার দেখলাম বঙ্গবন্ধু আমার বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম পিঠে হাত রেখেছেন।
কি কথা হয়েছিল তা পরে জানতে পেরেছিলাম, বঙ্গবন্ধু সরাইলে এতলোক সমাগম দেখে অভিভূত হয়ে বলেছিলেন সরাইলে এত লোক সমাগম!
উত্তরে সিরাজ ভাই বলেছিলেন স্যার আমি একমাস যাবত কোর্ট করিনা তখন নাকি পিঠে হাত দিয়ে বলেছিলে”বাচ্চা উকিল”এবং বঙ্গবন্ধু ‌নোটবুকে সিরাজ ভাইয়ের নাম লিখেছিলে সেই থেকে বঙ্গবন্ধু সিরাজ ভাইকে”বাচ্চা উকিল” বলেই ডাকতেন।
সরাইল এলাকাতেই বর্ষিয়ান নেতা দেওয়ান মাহবুব আলী সাহেবের বাড়ি১৯৫৪ সালে সরাইল নাসিরনগর এলাকা থেকে আইন‌ সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার উপর সরাইলে রয়েছে কনভেনশন মুসলিম লীগ। বঙ্গবন্ধু নিশ্চয়ই এই সমস্ত কথা মাথায় রেখেই সরাইল এসেছিলে।
বঙ্গবন্ধু অফিস উদ্বোধন করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারমধ্যে সকল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বারবার জোর দিয়ে বলছিলে সমস্ত ইউনিয়নে আওমিলিগের ইউনিট গঠন করার কথা।
এদিকে এডভোকেট হামিদুর রহমান এবং আশুগঞ্জের শাফি হাম্মেদ বলতেছিলেন সিরাজ মিয়ার নমিনেশন ফাইনাল।
বঙ্গবন্ধু অফিস উদ্বোধন করে পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জননেতা আলী আজম সাহেবের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
সেখানে দুপুরের খাবারের শেষে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দের অনুরোধে একটি ফটোসেশন করেন। এই সেই ফটোসেশনের ছবি। পেছনের সারিতে লাল চিহ্নিত করা ছবিটি জননেতা সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের এবং বাঁদিকে পেছনের সারিতে জননেতা মাহবুবুল খোদা (মাহবুব ভাইকে) স্পষ্ট বোঝা যায়। সামনের সারিতে সবাইকে স্পষ্ট চেনা যায়।
সিলেটের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু রওনা হয়ে শাহবাজপুরে বাবু রবিনাগের বাড়িতে চা খেয়ে যান।
সেদিনের সেই সফরটি সম্পর্কে কুমিল্লার আমোদ পত্রিকায় যে সংবাদটি ছাপা হয়েছিল তা হুবহু তুলে ধরলাম।
শেখ মুজিবের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী সফর
বিভিন্ন স্থানে জনগণের বিপুল সম্বর্ধনা জ্ঞাপন
।। স্টাফ রিপোর্ট।।
গত ২৭শে জুলাই আওয়ামী লীগের প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সিলেটের পথে দাউদকান্দিতে উপস্থিত হলে তাহাকে বিপুল সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার পথে পথে সুন্দর সুন্দর তোরন তৈরি করা হয়। চান্দিনা, ময়নামতি, জাফরগঞ্জ, কুটি, খারেরা, সায়দাবাদ, সুলতানপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ ছাত্র সংসদ, মহকুমা আওয়ামী লীগ, কোকিল টেক্সটাইল এবং সরাইলে বিপুলভাবে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। প্রতিটি সমাবেশে তিনি কর্মীদেরকে ইউনিয়নে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইউনিট গঠন করিবার আহ্বান জানান।
৩১ শে জুলাই ১৯৬৯
সূত্র: মুক্তিযুদ্ধের সংবাদপত্র: আমোদ
মামুন সিদ্দিকী।
পৃষ্ঠা:৪৮।
“…… এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?
যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান,
তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-
চোখে নীল আকাশ, বুকে বিশ্বাস পায়ে উর্বর পলি।”