- জাতীয়, লিড নিউজ, সারাদেশ

তালেব হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমির অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

হলধর দাস
শিবপুরের কামারটেকে শিক্ষার আলো বিস্তারে অনন্য সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালেব হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমির ষান্মাসিক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মতবিনিময় সভা ৮ জুলাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।
প্রধান আলোচক ছিলেন তালেব হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ বশিরুল ইসলাম (বশির)।
প্রধান বক্তা ছিলেন একাডেমির রেক্টর মোঃ হারিছ মিঞা। সভাপতিত্ব করেন তালেব হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমির সভাপতি মোঃ তফাজ্জল হোসেন । একাডেমির প্রধান শিক্ষক সজল চন্দ্র পালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির প্রচার সম্পাদক ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাংবাদিক হলধর দাস, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাংবাদিক মনজিল এ মিল্লাত, প্রাথমিক শিক্ষক নেত্রী শিউলি মিত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন, হাজী আব্দুল আওয়াল মাস্টার, শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান শিক্ষক ফরহাদ মিয়া, অভিভাবক ইউপি সদস্য ওসমান গণি, অভিভাবক মোঃ বাদল মিয়া, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মান্না ভূইয়া স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা খুবই কঠিন, কাদির মোল্লা সিটি কলেজ বা নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে  শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় বাছাই করে। তারপর তাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়। রেজাল্ট খারাপ করলে বের করে দেয়া হয়। কিন্তু তালেব হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বশিরুল ইসলাম এলাকার মান উন্নয়নে বাছাই ছাড়াই সকল প্রকার  শিক্ষার্থী ভর্তি করেন এবং তাদেরকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নজির সৃষ্টি করে চলছেন। এবারের এসএসসি(২০২৪) পরীক্ষার ফলাফলই তার প্রমাণ।
ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠা হওয়া বিদ্যালয়টি থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৬২ জন অংশগ্রহণ করে ২৫ জন এ-প্লাসসহ শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়া সহজ ব্যাপার নয়।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একজন মনিষী’র উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, যদি শিক্ষক হতে চাও তবে আগে ছাত্র হও। অর্থাৎ প্রত্যেক শিক্ষককে বাড়ীতে অনেক পড়াশোনায় জ্ঞান অর্জন করে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হবে। তা হলেই শিক্ষার মান আরো এগিয়ে যাবে এবং এ শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশ পরিচালনায় স্মার্ট নাগরিক হিসেবে  অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করছি।
প্রধান আলোচক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা  মোঃ বশিরুল ইসলাম বলেন, আমি চাই আমাদের অবহেলিত এই
এলাকার মানুষ যাতে সু-শিক্ষা  অর্জন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং দেশ সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ সমাজ প্রতিষ্ঠায় যেন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নজির সৃষ্টি করতে পারে। আমার কোনো চাহিদা নেই, আমি কম বেতনে ভর্তুকি দিয়ে স্কুল চালাচ্ছি। এ প্রতিষ্ঠান আমার একার নয়, আপনাদের সকলের। আমি কোনো দিন না থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য যেন আপনারা ধরে রাখতে পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।