নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলস্টেশনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত যুবকের নাম আমীর হোসেন (২৬), তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, আমীর হোসেন তার দুই বন্ধুর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। রাতভর মাজারে অবস্থান করে আজ সকালে তারা তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন।
নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনটি যাত্রাবিরতি দেওয়ার পর প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে ছাদ থেকে নামতে শুরু করে যাত্রীরা। ট্রেনটি আবার চলতে শুরু করলে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে টান লেগে আমীরের লুঙ্গি খুলে যায়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। ট্রেনটি তাকে প্রায় ৩০ গজ টেনে নিয়ে যায়।
উদ্ধার ও মৃত্যু:
উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছার পথেই আমীর হোসেনের মৃত্যু হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বক্তব্য:
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, “ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্ধুর শোক:
দুর্ঘটনার মাত্র কিছুক্ষণ আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নামা আমীরের বন্ধু আকরাম হোসেন জানান, “একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চোখের সামনেই তাঁর মৃত্যু দেখলাম।”
এই দুর্ঘটনা ট্রেনের ছাদে যাতায়াতের বিপজ্জনক দিক আবারও সামনে এনেছে। ট্রেন ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্ক থাকা খুবই জরুরি।
নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবক নিহত










