প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই স্টুডেন্ট ভিসায় এ কে এম ইন্টারন্যাশনাল এর চমক

এ কে এম সেলিম
প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই এ কে এম ইন্টারন্যাশনাল
স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে অবস্থিত কিয়াংসান ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে দুটি ভিসার আবেদন করে দুটিই পেয়ে যায়। ভৈরব উপজেলার কালিপুর গ্রামের মোঃ মুসলেম মিয়ার ছেলে মোঃ স্নেহ মিয়া এবং রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ গ্রামের আবু তালেব মিয়ার ছেলে মোঃ তুহিন দুজনেই দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা হাতে পেয়েছে।
শনিবার ( ১৫ আগস্ট) রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে রায়হানা শহীদ মডার্ন একাডেমিতে তাদের হাতে ভিসা এবং ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন একেএম ইন্টারন্যাশনালের মোঃ তারেক খান তরিফ, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি মোঃ আব্দুর রউফ, রায়পুরা প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সেলিম, অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এ কে এম পলাশ, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলাম এবং মেঘনা ইন্সুইরেন্সের ম এরিয়া ইনচার্জ মোঃ মাহবুব হোসেন।
একেএম ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে মোঃ তারেক খান তরিফ জানান, “প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে কিয়াংসান ইউনিভার্সিটিতে দুটি ভিসার আবেদন করে আল্লাহর রহমতে দুটি ভিসাই আমরা পেয়েছি। আরও দুটি ভিসার আবেদন অন্য ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া আছে। আশা করি শীঘ্রই আরেকটা সুখবর পাব। আমাদের সিইও এ এস এম আকাশ দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের টংমিয়ং ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তিনি নিজে সকল ফাইল ওপেনের কাজ সরাসরি ভার্সিটিতে যোগাযোগের মাধ্যমে করেন বিধায় পেপারসগুলো সঠিকভাবে প্রসেস করা হয়। যা ভিসা প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। আইইএলটিএস সহ এবং আইইএলটিএস ছাড়া দুই ভাবেই স্নাতক ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার কাজ করে একেএম ইন্টারন্যাশনাল।”
সদ্য ভিসা হাতে পাওয়া স্নেহ মিয়া বলেন, একেএম ইন্টারন্যাশনালের প্রধান এ এস এম আকাশ অত্যন্ত ফ্রেন্ডলি। দিন রাত যখন ইচ্ছা যেকোনো তথ্যের জন্য কল করলে সাথে সাথে রিসিভ করে পরামর্শ দেন। অনেক এজেন্সি ঘুরে একেএম ইন্টারন্যাশনালের কাছে এসেছি এবং প্রথমবার আবেদন করেই ভিসা পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। অন্য এজেন্সিগুলো যেখানে ফাইল ওপেনিং চার্জের নামেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং ভিসা হওয়ার পর ২ লাখ টাকা দাবি করে সেখানে একেএম ইন্টারন্যাশনাল ফাইল ওপেনিং চার্জ ছাড়া এবং ভিসা হওয়ার পর স্বল্প খরচে আমাদের সকল কাজ সম্পন্ন করেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে একেএম ইন্টারন্যাশনাল এক নতুন দিগন্ত।”
ভিসা পাওয়া অপর ব্যক্তি তুহিন বলেন, একেএম ইন্টারন্যাশনাল নরসিংদী জেলার বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া যেতে ইচ্ছুকদের জন্য। যেহেতু এর সিইএ এ এস এম আকাশ নিজে কোরিয়ার একটি ইউনিভার্সিটিতে তাঁর ডিপার্টমেন্টে পর পর চার সেমিস্টারেই টপ রেজাল্ট করে ইতিমধ্যে ঐ দেশের প্রসিডেন্ট থেকে আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে এবং তিনি নিজে ফাইল ওপেনের সকল কাজ সরাসরি ভার্সিটির সাথে যোগাযোগ করে করেন তাই ভিসা হওয়ার চান্স অনেক বেশি।কোন ধরনের ছলনা বা হরয়ানি ছাড়া স্বল্প খরচে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে বিশেষ করে নরসিংদী বাসীর জন্য এর চেয়ে ভালো এজেন্সি আর হতে পারে না।”
প্রতিষ্ঠানের সিইও এ এস এম আকাশের বড় ভাই সায়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং রায়পুরা প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সেলিম বলেন, “আমার ছোট ভাই আকাশ একজন মেধাবী ছাত্র। তাঁর মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিকট থেকে এক মিলিয়ন কোরিয়ান মুদ্রা আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে। ব্যবসা করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য না। বরং আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কোরিয়ায় উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করাই মূল উদ্দেশ্য।”
একেএম ইন্টারন্যাশনালের সিইও এ এস এম আকাশ জানান, ” আমি নিজে প্রথমে ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতারিত হয়ে আরেকটি এজেন্সির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া ভিসা পাই। সেক্ষেত্রে প্রথমবার ফাইল ওপেনিং চার্জের নাম করেই আমার থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং ডকুমেন্টস প্রস্তুতে তেমন সহযোগিতা করেনি। দ্বিতীয়বার আরেকটি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা পেলেও অনেক টাকা এজেন্সিকে দিতে হয়। সেই থেকে আমার স্বপ্ন ছিল যদি সুযোগ হয় আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে কাজ করব। অলরেডি কিয়াংসান ইউনিভার্সিটিতে দুটি ভিসার আবেদন করে ভিসা পেয়েছি। আরও দুটি ভিসা অন্য ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া আছে। আশা করি তাদের ভিসাও হবে ইনশাআল্লাহ। সামনে ডিসেম্বর ও মার্চ ইন্টেকের জন্য যারা আগ্রহী তারা এখনই যোগাযোগ করলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তাদের স্বপ্ন পূরণে।”