নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ, অভিভাবক এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
আয়োজকদের অভিযোগ, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার অনুসারীরা মানববন্ধনে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করা হলে, সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়।
জুলাইয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়।
তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি বক্তাদের। কিন্তু আদালতের আদেশের পরও শাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে রয়েছেন।
ওই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, “অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল-স্লোগান করিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।”
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে টিকেনি। শাখাওয়াত হোসেন দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের ফল প্রায় ৯৯ শতাংশ ভালো ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি এ সাবেক শিক্ষার্থীর।
মানববন্ধন চলাকালে হামলা ও ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি সাংবাদিকদের। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।





