নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাধবদী থানা মহিলা শাখা।
২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবদী পুরাতন বাসস্টেন্ডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মহিলারা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। দর্ষন ও খুন বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। যার ফলে এসব নাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। মাধবদীতে ঘটে যাওয়া আমেনা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবী করছি। অপরাধীদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দিয়ে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটতে পারে। এসময় আমেনা হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাধবদী শহর শাখার সেক্রেটারীআয়েশা হুমায়রা, মাধবদী থানা সেক্রেটারী সৈয়দ সাফিয়া, মহিলা বিভাগের নেতৃ আসমা, তাসলিমাসহ মহিলা শাখার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষ।
এছাড়াও একই স্থানে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নরসিংদী জেলা শাখা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সহকারী সেক্রেটারী সুমন মাস্টার, ডেপুটি গভর্ণর মাসুম মিয়া, নরসিংদী জেলা শাখার সেক্রেটারী আরাফাত রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রাসেল মিয়াপ্রমূখ।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নিহত ওই তরুনী আমেনা আক্তার (১৫)’র মরদেহ উদ্ধার করে মাধবদী থানা পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানায়, নিহতের পিতা আশরাফ আলী বরিশালের বাসিন্দা। কর্মের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহমদের নেতৃত্বে মিমাংশা হয় ।
ঘটনার দিন বাবা আশরাফ আলী তার বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌছলে নূরার নেতৃত্বে আরো ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষন খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সকালে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো আমেনার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এঘটনায় আমেনার মা ফাহিমা বেগম ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করে। এখন পর্যন্ত ৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় মাধবদীসহ সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদে করে যাচ্ছে।





