মামুনুর রশিদ
নরসিংদীর মাধবদীতে বৃদ্ধা জাহানারার হত্যা মামলায় ৩ আসামী গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অশস) মোঃ আশিকুর রহমান জানান গত ৩০ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় মাধবদী থানাধীন মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈর গ্রামে নিজ বসতঘরের বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ নারী মোছাঃ জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গলার একটি সোনার চেইনের লোভেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মাদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন, আমার ও ওসি মাধবদী মোঃ কামাল হোসেনের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় মাধবদী থানার এসআই ইউসুফ আহম্মেদকে। গোপন সংবাদ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিবি টিমের সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযানে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং আসামীদের জবানবন্দিতে মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামী আবু মিয়া জানান, ঘটনার প্রায় ৭-৮ মাস পূর্বে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে আসামীরা ডিকটিমের গলার সোনার চেইন চুরির পরিকল্পনা করে এবং ঘটনার দিন ড্রিম হলিডে পার্কের পেছনে পুনরায় বৈঠক করে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজায়। ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে আসামীরা বসতঘরে প্রবেশ করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে এলে ভিকটিম তাদের চিনে ফেললে তারা তাঁকে চেপে ধরে বারান্দায় থাকা বটি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে থানায় মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আহমেদের নেতৃত্বে ডিবি টিম, এসআই সাদেকুর রহমান, এসআই জামিরুল ইসলাম, নায়েক শাকিল, কনস্টেবল ইয়াসিন, শফিউদ্দিন, মনিরুল,আসিক অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন মাধবদীর স্বর্পনিগৈর গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া(২৭), ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া(২৭), আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া(২৯)।
এছাড়াও এই মামলায় সম্পৃক্ত আরও পলাতক আসামীদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত সোনার চেইনটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।











