গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করুন – মাওলানা মামুনুল হক

শরীফ ইকবাল রাসেল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির আমির মাওলানা মোহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপির অধিনে নতুন সরকার গঠন হয়েছে মাত্র সাত মাস। সাত মাসে আমরা বিরোধী দল রাজপথে বেশ কিছু বড় বড় কর্মসূচি পালন করেছি।
নরসিংদীর পলাশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পলাশ উপজেলা শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পলাশ উপজেলা শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের পলাশ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি ফারুক ভুইয়া।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা মোঃ জাহিদুজ্জামান, শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর নুর, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক সারোয়ার তুষার, জামায়াতের অধ্যাপক ইসমাইল খায়েরীসহ অন্যরা।
বলেন, আমাদের এই কর্মসূচিগুলোর সম্পর্কে সমালোচনা করতে গিয়ে সরকারি দল ও তাদের বন্ধুরা বলছেন সরকারকেতো সময় দেওয়া দরকার। এখনো পর্যন্ত ছয় মাস/সাত মাস হতে পারল না বিরোধীদল কেন এত অস্থির হয়ে পড়ল। আমরা বার বার বলছি আমরা সরকারের বিপক্ষে আন্দোলন করতে এত গরজ ছিল না, প্রয়োজন ও ছিল না, যদি না সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারী আর বিশ্বাসঘাতকতা না করতো। আমরাতো ৬ মাস পরে রাজপথে নেমেছি আপনারা যখন ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হল সেই নির্বাচনে ৭০ ভাগ ভোট গণ ভোটে হ্যাঁ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছিল। ৫০ভাগ ভোট পেয়ে ধানের শীষ বিজয়ী হলো, ৫০ ভাগ ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে আপনারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন, কিন্তু ৭০ ভাগ জনগণের ভোটের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন। আমরা তো আন্দোলন করতে ছয় মাস বিলম্ব করেছি জাতির সাথে গাদ্দারি করতে আপনারাতো ছয় মিনিটও অবিলম্ব করেন নাই। সংসদের মুখপাত্র জাতীয় সংসদে গিয়ে বলেন গণভোট নাকি অবৈধ হয়েছে, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া দুই সন্তান। একজন অবৈধ হলে অপরজন বৈধ হতে পারে না। একই নির্বাচন কমিশনের, একই তফসিলে একইসঙ্গে একই দিনে দুটি ব্যালটে ভোট হল একই সঙ্গে ভোট দিলেন, একই সাথে ফল ঘোষিত হলো। সংসদ নির্বাচন যদি বৈধ হয় তাহলে গণভোট অবৈধ হতে পারে না। গণভোট যদি অবৈধ হয় বিএনপি সরকার বৈধ হতে পারে না। আসলে বর্তমান সরকার গণভোট মানতে চায় না, কারণটা কি? নির্বাচনের পূর্বে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন, যে কারণেই হোক, যেভাবেই হোক, প্রথমে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল গণ ভোটে তারা না ভোটের পক্ষে কাজ করবেন। পরে গোপনে তারা খবর নিয়ে নিল দেখল, যদি তারা গণভোটের না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায় তাহলে তারদের আম এবং ছালা দুটোই যাবে। শেষ পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায়।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পলাশ উপজেলা শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা ছাড়া তিনি উঠতেও পারেন না, বসতেও পারেন না এবং শুইতেও পারেন না, আমরা এমন রাষ্ট্রপতি চাই না। যদি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হয়, বিচার ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞা বাহী থাকবেনা, জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কমিশন হবে। আর তখন প্রশাসন দলীয় আজ্ঞাবাহী হবেনা বরং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। দলীয় সরকারের আজ্ঞাবাহী বিচারপতিদের অধীনে কুখ্যাত খাইরুল হকে যেভাবে কলমের খোঁচা দিয়ে জনগণের অধিকার রুদ্ধ করেছিল। গণভোটের রায় অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ হলে খাইরুল হকের মত বিচারপতিরা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। কিন্তু বিএনপি চায়না গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হোক, জনগণের অধিকার ফিরে আসুক। গনভোট বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রের মাঝে দলীয়করণ বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা চাই বাংলাদেশ দলীয়করণের অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকুক। বিগত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি বাংলাদেশটা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে পালিত প্রশাসন জনগণের সেবক ছিল না, আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তখন মানুষ বলতো আওয়ামী লীগ যুবলীগের পরে আরেকটি লীগ তৈরি হয়েছে, সেটি হলো পুলিশ লীগ। আমরা চাই জনগণের বন্ধু পুলিশ জনগণের সেবক হবে সরকারের পা চাটবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের পরে আর জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল বাংলার মানুষ দেখতে চায় না।

বাংলাদেশের বর্তমান তেল, গ্যাস সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু বিএনপি’র দলীয় করণ নয় তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ বাংলাদেশের গোটা এনার্জি সেক্টরকে একটা দেশ বিরোধী ভিনদেশি দালাল চক্রের হাতে তুলে দিয়ে আমার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এভাবে সর্বত্র টেন্ডারবাজি ও সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশকে অকার্যকর দেশ হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ শেরপুরি, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা মোঃ জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর নুর, সহ-সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম, এনসিপির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক সারোয়ার তুষার, জামাতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ঘোড়াশাল পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইসমাইল খায়েরীসহ অন্যরা।