নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদী জেলায় সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ডেঙ্গু সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রচারণা কার্যক্রম কেবল পৌরসভা বা মূল শহরকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে । এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে চিঠি প্রেরণ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোথায় কোথায় প্রতিনিয়ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং মশক নিধন কার্যক্রম কোন কোন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য জানানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি রেস্তোরাঁ ও হাট-বাজারে নির্দিষ্ট ঢাকনাযুক্ত পাত্রে বর্জ্য রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকেই তা সংগ্রহের নির্দেশনা দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার কথা বলেন তিনি — প্রতি শনিবার মাধ্যমিক ও প্রতি রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্কাউট ও বিএনসিসির মতো সংগঠনগুলোকেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার তাগিদ দেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, পরিচ্ছন্নতা কোনো সাময়িক অভিযান নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তিন মাসের প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রাহক নিয়োগ, প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং অধিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী (সকাল বা দুপুর) বর্জ্য প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৌরসভার প্রায় ৪০টি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডাম্পিং পয়েন্ট কমিয়ে এনে নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়। দীর্ঘমেয়াদী বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট (আনুমানিক ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চালু হওয়ার সম্ভাবনা) পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই সুনির্দিষ্ট সংগ্রহ পদ্ধতি বজায় রাখা হবে বলে জানানো হয়।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁগুলোকে খোলা ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার এবং ড্রেন বন্ধ না করার জন্যও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ না হয়। পৌরসভার টিমগুলো নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়। সভার শেষে জেলা প্রশাসক পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ গড়তে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নরসিংদী জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন সিভিল সার্জন ডাঃ বুলবুল কবীর, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ এন এম মিজানুর রহমান। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মোঃ সফিউল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ ওবাইদুল কবির মোল্লা, নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির কামাল, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস, নরসিংদী রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি ফারুক উদ্দিন ভূইয়া, বাংলাদেশ স্কাউটস নরসিংদী জেলা সম্পাদক মনজিল এ মিল্লাত, বাংলাদেশ স্কাউটসের সহকারী পরিচালক গাজী খালেদ মাহমুদ, বিএনপি নেতা মোঃ আলম মোল্লা, নরসিংদী পৌরসভার সচিব মাহফুজুর রহমান, এনএসপির সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল, গণমাধ্যম কর্মী ফাহিমা খানম।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে – জেলা প্রশাসক











